অভিমানী ভালবাসার গল্প-Sad love bangla story

Sad love bangla story

“শোভা, । i love u”
আমার কথা শুনে শোভা আশেপাশে তাকাল। কয়েকবার পায়চারি করে দুই কাধে ব্যাগের বেল্ট (Sad love bangla story)কোমরের দিকে টেনে ধরে মুখে যথেষ্ট রাগের ভাব নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলে..


– আবির, তুই মার খাবি বুঝলি?
– কেন?
– তোকে ভালোবাসা যাবে না।
– কেন?
– বেশি বকিস না।
আমি একটু চুপ থাকলাম। শোভার দিকে তাকাতেই ও আবার আমার দিকে তাকিয়ে আছে রাগি মুখে। আমি ওর নাক টেনে দিয়ে বললাম..
– বেশি বকবক না করে চল প্রেম করি।
– আমার সামনে থেকে তুই যা
– হুরর।
– হুমম। দেখ আবির আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি।
– তো?
– তোর লজ্জা করে না?
– কিসের লজ্জা?
– তুই তো যানিস আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি
– ধুত..আর আমি তোকে
– সে তো আমি জানি ……কিন্তু তুই তো আমার only best ফ্রেন্ড।
– এই জন্য তো তোকে খুব ভালোবাসি।
– তোর ফালতু কথা সোনার সময় আমার নেই।।আমি গেলাম।


শোভা হনহন করে হেটে চলে গেল। আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। কেমন যেন উদাস লাগছে সব। মেয়েটা আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড। কিন্তু কখন যে ভালোবেসে ফেললাম তা আমি নিজেও জানিনা। মেয়েটার মধ্যে সৌন্দর্যের কোনো ছিটেফোটাও নেই। না সে সাজতে পারে। না কোনো স্টাইল আছে না ঠিক করে কথা বলতে পারে। তবুও তাকে হুদাই ভালোবেসে ফেলেছি আমি কখন তার কারন আমি আজো খুজে পেলাম না।
.
দশদিন পর …..


– এই শোভা একটু শোন তো।
– বল
– I love u
– দেখ সব কিছু জানার পর এমন কেনো করিস বারবার বুঝিনা।
– বুঝবি কি আর পাগলি …আমি যে তোকে খুব ভালবাসি।
– তুই আমাকে পাগলি বললি ….তুই তো পাগল
– সত্তি …
– সত্তি তুই একটা পাগল রে


.
শোভা চলে গেল ক্লাসের দিকে। মাথায় প্রচন্ড রকম রাগ উঠে আছে। খোজ নিয়ে জেনেছি ওর কোনো ছেলে ফ্রেন্ড নেই আর আমি ছাড়া। বয়ফ্রেন্ড তো দুরে থাক। তাহলে সে কাকে ভালোবাসে? ধুরর ভালো লাগে না। প্রতিদিন আমাকে তার বিএফ এর গল্প শোনাতে থাকে। অসহ্য লাগে।
.
আবার দশদিন পর…
.
– এই শোভা i love u..
– এমন একটা চড় মারব না তোকে
– আমি তোকে সত্তি ভালোবাসি। আমি খুজি তোকে প্রতিটা বৃষ্টি ফোঁটার শব্দে অথবা দুরের ঐ নীল আকাশের নিশ্চুপ নিরাবতায়।
– সামনে থেকে যা তুই।
– তোকে ভালোবাসি রে শোভা..
কথাটা বলেই শোভার হাত ধরলাম আমি। সে হাত ছাড়িয়ে আমার গালে একটা চড় মারে। চড়ের শব্দ শুনে আশেপাশের সব ছেলেমেয়েরা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কয়েকজন বেশ জোরেই হেসে দিল। আমি সবার দিকে একবার তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলাম। নিজের হাতে চড় খাওয়া গালটাই হাত দিয়ে সবার সামনে থেকে চলে আসি।
.
বাড়িতে বেশ মন মরা হয়ে আসতেই আম্মু ডাক দেয়। আমি যথেষ্ট স্বাভাবিক হয়ে আম্মুর সামনে যেয়ে দাঁড়ায়।
– কাল একবার তোর নানুর বাড়িতে যেতে হবে।
– কেনো?
– তোর নানুর শরীরটা বেশ খারাপ। কাল সকালেই যাবি।
– আচ্ছা..
.
তারপরের দিনই চলে আসি নানু বাড়িতে। ভার্সিটিতে আর যায়নি বেশ কয়েকদিন। শোভার কথা খুব মনে পড়তো। সবসময় মন খারাপ করে নানু বাড়িতে বসে থাকতাম। কেমন যেন কান্না আসতো। যেন মনে হতো সবকিছু রসকষহীন হয়ে গেছে। এর বেশ কয়েকদিন বাড়িতে এসে ভার্সিটিতে গেলাম। পরিচিত এক জায়গায় বসে বাদাম চিবাচ্ছি। তখনি শোভা এসে আমার হাত থেকে বাদামগুলো কেড়ে নিয়ে বলল..
– কোথায় ছিলি এ কয়দিন?
– বাড়িতে।
– ক্লাসে আসিস নাই কেনো?
– এমনি।
– এমনি মানে কি হুম?
– শরীর খারাপ ছিল।
আর কিছু বললাম না। সেখান থেকে চলে আসি সোজা বাড়িতে। এভাবে আরো কয়েকদিন চলে যায়। ভার্সিটিতে গেলেই খুব একটা কারো সাথে কথা বলতাম না। শোভাকে দেখলেই লুকিয়ে চলে আসতাম। সে আমাকে দেখে কাছে আসার চেষ্টা করতো। কিন্তু আমি তার আগেই চলে আসতাম।
.
– আমার সাথে কথা বলছিস না কেনো?
শোভা এসে সামনে দাঁড়িয়ে কথাটা বললো। আমি একবার ওর দিকে তাকালাম আরেকবার নিচের দিকে। শোভা আবার বলল..
– কি হল কথা বলিস না কেনো?
– আসলে শোভা সরি রে, আমি জানি তোকে অনেক জ্বালাতাম। আর কখনো জ্বালাবো না।
– ওহ তাই?
– হুম
– তোর ফোন অন করিস না কেনো? একবার অন করে দেখিস।
– হুমম।
– কাল ভার্সিটির পিছনে যে পুকুর পাড় আছে ওখানে চলে আসবি।
– কেনো?
– দরকার আছে। আর যদি না আসিস তবে বাড়িতে চলে আসবো কিন্তু।
– হুম।
.
পরেরদিন
.
পরেরদিন সকালে শোভার কথামত ওখানে আসি। এসেই দেখি শোভা বসে আছে। হাতে অনেকগুলো ফুল। আমাকে দেখে ও দাঁড়িয়ে বলে..
– আজ কত তারিখ?
– কেনো? 30 তারিখ।
– আজকের এই তারিখে প্রথম তোর সাথে আমার দেখা হয়েছিল। তুই নিজে থেকেই এসে কথা বলেছিলি।
– হুমম।
শোভা কিছুক্ষন চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। আমি ওর দিকে তাকালাম না। তাকানোর সাহস পাচ্ছি না। হঠাৎ করেই আমাকে অবাক করে দিয়ে শোভা আমার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে বলতে লাগল…
– আমি একজনকে ভালোবাসি। এটা তুই জানিস। কিন্তু কাকে ভালোবাসি তা জানিস না। আসলে আমি তোকে ভালোবাসি। বর্তমানের রিলেশনের দিকে তাকালে আমার ভালোবাসার প্রতি আগ্রহটাই চলে যায়। কারন এখন ভালোবাসা মানে সব নোংরামি। আমি তোকে নীরবে ভালোবাসি খুব। কিন্তু প্রকাশ করতে ভয় পেতাম। ভয়টা আসতো যদি তুইও ঐসব নোংরামোতে জড়িয়ে যেতিস। কিন্তু পরে বুঝলাম যে তুই আসলেই ওরাকম না। তোর শুন্যতে আমি এ কদিনে বেশ ভালোভাবেই টের পেয়েছি। আমি তোকে ভালোবাসি রে। আর ভালোবেসে আমি সারাজীবন তোর সাথে থাকতে চাই। জানি, একসময় রিলেশনে ঝগড়া হবে, অভিমান হবে, রাগ হবে। কিন্তু সবসময় তোকে আগে সরি বলতে হবে। সবসময় আমার রাগ ভাঙাতে হবে। আমাকে খুব ভালোবাসতে হবে। বুঝলি?
আমি শোভার কথা শুনে হা হয়ে তাকিয়ে রইলাম ওর দিকে। কি বলবো আমি মাথায় আসছে না। আশেপাশে তাকালাম। অনেক ছেলে মেয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন মনে হচ্ছে এমন বিরল দৃশ্য তারা আর আগে কোনোদিন দেখেনি। একটা মেয়ে নিজেই হাঁটু মুড়ে বসে একটা ছেলেকে প্রপোজ করছে ভাবা যায়?Sad love bangla story
আমি শোভার হাত থেকে ফুলগুলো নিলাম। সে উঠে দাঁড়াল। মাথাটা নিচু করে নিল ও। আমি একটু শব্দহীন হাসি দিয়ে বললাম.
– হুমম সবকিছুই করতে পারি। যদি প্রতিবার ঝগড়া শেষে, রাগ- অভিমান শেষে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরিস। আর আমি যতক্ষন না বলবো ছাড়া যাবে না।
– এহহ… যাহ ভাগ এখান থেকে।
– শুরুই হলো না প্রেম, রাগ করছিস।
– ঐ আগে তুমি করে বল।
– আমি কেনো আগে বলবো? তুই বল।
– ছেলেরা আগে বলে।
– হুটট লেডিস আগে। তাই তুই বলবি আগে। এখন তুমি সম্মোধনে প্রপোজ কর না হলে আমি গেলাম।
– ঐ আবিরের বাচ্চা..
– কিহহ.
– সরি, ইয়ে মানে বলছি.. আই লাবুউউউ আবির, তোমাকে হেব্বি ভালোবাসি জানু..
– নেকামো রাখো বেবি..
কথাটা বলে হাঁটা শুরু করলাম। শোভা পিছন থেকে কয়েকবার ডাকল। আমি তাকালাম না। সোজা ধীর পায়ে হাঁটতে লাগলাম। কখন যে একটা শীতল হাত আমার বাম হাতের আঙ্গুলগুলো মুষ্টি বদ্ধ করে নিল যার স্পর্শে কয়েকবার অজান্তেই কেঁপে উঠলাম। তারপর…Sad love bangla story
তারপর আর কিছু নেই। কেবল মনে মনে বললাম… অনুপস্থিতিতে যদি কেউ শুন্যতা অনুভব করে ভালোবাসে, তাহলে মাঝে মাঝে এমন অনুপস্থিতি থাকা ভালো।
—“(সমাপ্ত”)—

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *